Lose To Gain

ইমোশনাল ইটিং

September 19, 2017by Sajedur Rahman0
15.Emotional-Eating-.jpg

আমরা আমাদের জীবনের অনেকগুলা বছর পার করি উল্টা পাল্টা খাওয়া দাওয়া করে। এমনকি আমিও তার ব্যাতিক্রম ছিলাম না কখনো। আশেপাশের মানুষজন, আত্বীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই একটাই কথা তখন বলে “এটাই বয়স বেশি খাওয়ার, এখন খেলে কিছুই হবেনা, সব হজম হয়ে যাবে, এই বয়সে লোহা খেয়েও হজম করে ফেলা যায়” আসলেই কি তাই?

একটা সময় যখন আমরা ওভারওয়েট লিমিট পার হয়ে ওবেস ক্যাটাগরীতে চলে যাই তখন আমাদের টনক নড়ে। আমরা তখন হঠাৎ করেই ওজন কমানো জন্য অস্থির হয়ে পরি। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেই। কয়েকদিন দৌড়াই, এক্সারসাইজ করি, লেবুপানি, জিরাপানি, আদাপানি এমনকি দয়াল বাবার দোয়া পড়া পানিও খাই। কিন্তু কাজ হয়না তখন আবার হাল ছেড়ে দেই। হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরি আর এটা কাটাতে আরো বেশি বেশি খাই। দুনিয়ার তামাম খাবারের অফার শেষ করে নিজেকে সান্তনা দেই যে ওজন কমবে না আমার তাই চেষ্টা করেও লাভ নেই। এটাকে বলে Emotional Eating।

বিষন্নতা থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য খাবারকে সহায়ক হিসাবে নেয়াকেই Emotional Eating বলা হয়।

 

Emotional Eating কিভাবে আমাদের ওজন বাড়ায়:

 

Serotonin (এক ধরনের neurotransmitter যা ব্রেইনের মধ্যে পাওয়া যায়) যা মানুষের বিভিন্ন বিহেভিয়ার যেমন: খিদে, ঘুম, সেক্সুয়াল রেসপন্স, আবেগ নিয়ন্ত্রন, আক্রমণাত্মক আচরণ ও রাগ, বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং উপলব্ধি করা এর জন্য দায়ী।

 

যাদের আত্মহত্যা করার মনোভাব, অন্যের প্রতি সবসময় আক্রমণাত্মক আচরণ এবং অতিরিক্ত বিষন্ন মানুষের মাঝে Serotonin এর মাত্রা অনেক কম থাকে। একাধারে কোন বিষয় নিয়ে উদ্বেগ থাকা, মাত্রাতিরিক্ত সুক্ষভাবে কোন কাজ সম্পন্ন করার প্রবনতা, অনিদ্রায় ভুগা মানুষের মধ্যে Serotonin এর মাত্রা অনেক বেশি থাকে।

যাদের মাঝে Serotonin এর মাত্রা কম থাকে তারা বিষন্ন বোধ করলেই মিষ্টি, স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া শুরু করে। এসব খাওয়া শুরু হলেই Serotonin এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং তার ভালো লাগতে শুরু হয়।

 

সমস্যা হল মিষ্টি, স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া শুরু করলেন এগুলা তাড়াতাড়ি শরীরে হজম হয়ে যায় এবং দ্রুত শরীরকে এনার্জি দেয়া শুরু করে কিনতু শরীর তখনই সেটা বার্ন করতে পারেনা। বরং যেটা হয় যে আপনার মিষ্টি, স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার এটা চেইন রিএকশন শুরু হয় কারন Ghrelin (ব্রেইনের ধরনের হরমোন) আপনার খিদে বাড়াতে থাকে। আপনার ভল লাগা চলতে থাকে এবং আপনার শরীর ইনসুলিন তৈরি শুরু করে।

 

ইনসুলিন আপনার রক্তে সুগারের পরিমান নিয়ন্ত্রনের কাজ করে। কিন্তু যখন অতিরিক্ত সুগার বা কার্বোহাইড্রেট মানুষ গ্রহন করা শুরু করে ইনসুলিনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। রক্তে সুগারের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ইনসুলিন তখন তাকে আর নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা এবং আপনার শরীর মেটাবলিক রিএকশনের মাধ্যমে সুগারকে ফ্যাট-এ রুপান্তর করে পরবর্ততিতে ব্যবহারের জন্য।

 

ইনসুলিন স্পাইক শরীরে ৫ ঘন্টা পর্যন্ত থাকে তাই সে-সময় যে খাবারই খাওয়া হোক না কেন তার বেশিরভাগই ফ্যাট-এ রুপান্তর করতে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে শরীরে ধীরে ধীরে ফ্যাট বাড়তে থাকে এবং আপনার ওজন বাড়তে থাকে।

Emotional Eaters রা সবসময় মিষ্টি, স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বেশি খেতে পছন্দ করে এবং পুষ্টিকর খাবার যা তার শরিরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন মিনারেল দিবে সেগুলা খুব একটা খেতে পছন্দ করেনা।

 

Emotional Eaters রা এইসব খাওয়ার পক্ষে যেসকল যুক্তি দেখায়:

১. কাল রাতে ভারো ঘুম হয়নি, দুর্বল লাগছে এমন কিছু খেতে হবে যা সাথে সাথে এনার্জি দিবে।
২. একটু বেশি খেলে তেমন ক্ষতি হবেনা।
৩. ইসস ফ্রি-তে পাইসি খাবোনা কেনো।
৪. আমার খুব ভালো অথবা খারাপ দিন গেছে আজকে তাই একটু তো খাওয়া লাগবেই।
৫. কোথাও গেলে আমি বতে খুজে খুজে খেতে পারব না।
৬. খাবারটা দেখেই খাইতে ইচ্ছা করছে তাই আমিও একটু খাবো।
ইত্যাদি ইত্যাদি…

 

Emotional Eating থেকে মুক্তি পেতে কি করবেন:

 

বিষন্নতা শুরু হলে বা মন খারাপ লাগা শুরু হলেই বাইরে থেকে একটু হাটাহাটি করে আসুন। নিচের ১২টি কাজ আপনাকে সাহায্য করবে Emotional Eating থেকে মুক্তি পেতে:

১. সারাদিনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থসম্মত খাবারকে ৫-৬টা ভাগে ভাগ করে ফেলুন এটা আপনাকে একটু পর পর খিদে নিয়ন্ত্রন করবে।
২. রিফাইন কার্ব (সাদা ভাত, নুডুলস, পাস্তা, ময়দার রুটি, চিনি) বাদ। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন : লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, ওটস, বার্লি এসব খাবেন। এসব হজম হতে সময় নেয় তাই আপনাকে বেশি সময় শক্তি দিবে।
৩. স্ট্রেস কমানোর জন্য নিজের জীবন-যাপনকে একটা সুন্দর নিয়মে নিয়ে আসুন। নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম করুন।
৪. ফ্রিজ বা খাবার যেখানে রাখছেন সেখানে কি কি খাওয়া যাবেনা একটা লিষ্ট ঝুলিয়ে রাখুন।
৫. যেকোন খাবারের পর ডেজার্ট খাওয়ার পরিবর্তে হালকা হাটাহাটি করেন। পুরাতন সব অভ্যাস বাদ দিয়ে নতুন ভালো অভ্যাস গড়া শুরু করুন।
৬. বিষন্নতা বা মন খারাপ লাগলে কাছের কোন বন্ধুর সাথে কথা বলুন, তাকে মনের অবস্থা খুলে বলুন।
৭. নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকুন।
৮. প্রতিদিন ওজন মাপা বন্ধ করুন এবং প্রতি ৩০ দিনের আগে ওজন মাপবেন না।
৯. আপনি প্রতিদিন কি কি করছেন, খাচ্ছেন তা কোথাও লিখে রাখুন কিন্তু কারো সাথে শেয়ার করবেন না। দিন শেষে নিজেই নিজেকে মুল্যায়ন করুন এবং আরো ভালো করার প্রতিজ্ঞা করুন।
১০. স্বাস্থ্য বিষয়ক কোন গ্রুপে বা জিমে যোগ দিন কারন আপনিই প্রথম Emotional Eaters নন আরো এমন অনেকেই আছেন যারা এখন ভালো আছেন। তাদের থেকে ইনস্পায়ার হতে শিখুন।
১১. আপনার আশেপাশের মানুষজন যারা আপনাকে খেতে উৎসাহ দেয় তাদের সাথে কম মিশুন এবং নিজের খাবারের নিয়মে দৃঢ় থাকুন।
১২. পৃথিবীতে কেও পারফেক্ট নয়। আপনি আমি কেউ নয়। এটাকে মানতে শিখুন এবং সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা শুরু করুন।

 

সবশেষে একটি কথাই বলব নিজের পরিবারকে ভালোবাসুন এবং তাদের সাথে ভালো সময় কাটান।

 

Written By

Kawsar Hasan

NESTA Certified Fitness Nutrition Coach

by Sajedur Rahman

Hi! I am Sajedur Rahman, an International Sports Sciences Association (ISSA, USA) Certified Fitness Nutrition Specialist also INFS certified Fitness & Nutrition Expert . I have 2 years experience in health and Fitness. Having been obese myself, I decided to make a lifestyle change. I underwent a transformation myself dropping from 100 to 73 kgs(do check transformation pics) hence I am quite aware of the challenges involved in transforming to the best version of you! I decided to educate myself about fitness, human physiology, right nutrition and effective workout. My goal is to spread awareness about fitness & nutrition in Bengali. Stay connected with me, share my work. Help yourself & also help the people you care about .