Lose To Gain

বাপ দাদা রা ফিট ছিল? না আমরা অলস হয়ে গেছি?

September 16, 2017by Sajedur Rahman0
4.-Fit-or-not-1280x853.jpg

প্রায় আড্ডায় একটা গল্প শোনা যায় আমাদের বাপ দাদারা সেই ফিট ছিল। তারা কবজি ডুবায়ে দুধ খাইসে সব পিউর সব খাঁটি। তাদের কিচ্ছু হয়নি তারা সবসময় ফিট, অসুখ বিসুখ তো ছুতেই পারেনি তাদের। আর আমাদের একটার পর একটা লেগে আছে। ফরমালিন আর কিটনাশক দেয়া খাবার খেয়ে শরিরটার বারোটা বেজে গেসে।

নিজের অপরাগতা বাহানা দিয়ে ঢাকা মানুষের আদিকালের ধর্ম। বাপ দাদা ফিট ছিল পিওর খেত দেখে এ কথাটা কতটা যৌক্তিক আমার বোধগম্য না। আমি ৩০ % এগ্রী করতে পারি কথাটার সাথে সর্বোচ্চ। এবার বলি কেন।

বাপ দাদা রা ফিট ছিল,কারন তারা আপনার মত ট্রেনের আড্ডায় বা বাসে বা রিক্সায় চড়ে তাদের বাপ দাদার কবজি ডুবায়ে খাবার বা ফিট থাকার গল্প করেনি। তারা হেঁটে হেঁটে বা সাইকেলে করে ২০-৩০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়েছে। বাজারের ব্যাগ টা কাজের লোক দিয়ে না নিজে বয়ে এনেছে। বাসার লাকড়ি শেষ হয়ে গেলে কুড়াল দিয়ে নিজে গাছ কেটেছে। সুইচ টিপে তারা পানি পায়নি। নদী থেকে পানি নিয়ে এসেছে বা বালতির পর বালতি পানি চাপকলে তুলেছে। তাদের সময় ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি, বা কোন ফাস্টফুড দোকান ছিল না। তারা সর্বোচ্চ দোকানে ভাজা পিয়াজু, সিঙ্গাড়া খেয়েছে। বিয়ের দাওয়াত বা বাসায় বিশেষ গেস্ট আসলে ভাল মন্দ রান্না হয়েছে। তারা এসব ফাস্টফুড বা রিচফুড বা ভাজাপোরা বা এধরনের আবর্জনা কম খেয়েছে। আর যতটা খেয়েছেও ততটা খরচ করেছে গতর খাটিয়ে।

এখন আপনি কি করেন? ১০ মিনিটের রাস্তাও আরেকজনের কাঁধে (রিক্সায়) চেপে যান প্রতিবন্ধীর মত। ভাবেন আমার তো অনেক টাকা হেঁটে যাব কেন! ফাস্টফুড বা ভাজাপোড়া এ ধরনের খাবার থেকে বডিতে যে টক্সিন জমা হয় তা শরির থেকে বের করার পথ হল এক্সারসাইজ। আপনার বাপ দাদা এসব খেয়েছে তো কাজ কর্ম করে গতর খাটিয়ে বার্ন ও করেছে। আর আপনি জমা করেছেন। ফরমালিন বলে চিল্লাচ্ছেন, এখনও বুদ্ধি করে চললে অনেক ফ্রেশ জিনিষ খাওয়া সম্ভব আর বডিতে তারপরেও কোন ক্ষতিকর কিছু ঢুকলে তা এক্সারসাইজ করে ঠিক করা সম্ভব। আপনি যদ ফিট হবেন আপনার ইমিউন সিস্টেম তত বেটার হবে।

একটা গল্প করি, নিজ চোখে দেখা। আমাদের জমিতে কাজ করে এমন একজন। তো সে কাজ করতে গিয়ে হাতে অনেক বড় কেটে ফেলসে। আমি সপ্তাহ খানেক পরে গিয়ে দেখে ঘটনা জানি। ততদিনে তার কাটা টা শুকিয়ে ঠিক হয়ে গেসে অলমোষ্ট। সে সব দিয়ে মাত্র ১০০ টাকার ওষুধ খাইসে। তারপরে এক সপ্তাহ কাজও করেছে। যেসব ওষুধ দেখলাম সব নরমাল ওষুধ। তার যতটা কেটেছে সেটা ঠিক করতে আমার মিনিমাম ৫০০-১০০০ টাকার ওষুধ খাওয়া লাগতো। তার ফিটনেস লেভেল আমার চেয়ে কয়েকগুন বেটার, সেআমার মত ভাল খাবার ও খেতে পায়না। তার বডিতে ফ্যাট জিনিষটার ছিটেফোটা নাই। লীন মাসলে ভরা বডি। দামী জিম মেম্বারসীপ না মাঠে কাজ করে এ বডি হয়েছে।

আদি যুগের মানুষের বডি মাসকুলার ছিল বেশি। কেন? কারন তারা শিকার করে খেত। আধুনিক মেশিন তাদের লাইফ সহজ করে দেয় নি। যত দিন যাচ্ছে আমাদের শরিরের খাটুনি কমে যাচ্ছে। ভারি কাজ করার জন্য আমাদের মাসল প্রয়োজন। যেহেতু ভারি কাজ করিনা সেহেতু ধিরে ধিরে মাসল কমে যাচ্ছে আর বডিতে ফ্যাট জমা হচ্ছে। এক সময় Wall-E মুভির মত অবস্থা হবে আমাদের। তাই সময় থাকতে ফিট হওয়া জরুরি।

 

Written By

Sajedur Rahman

ISSA Certified Fitness Nutrition Specialist

by Sajedur Rahman

Hi! I am Sajedur Rahman, an International Sports Sciences Association (ISSA, USA) Certified Fitness Nutrition Specialist also INFS certified Fitness & Nutrition Expert . I have 2 years experience in health and Fitness. Having been obese myself, I decided to make a lifestyle change. I underwent a transformation myself dropping from 100 to 73 kgs(do check transformation pics) hence I am quite aware of the challenges involved in transforming to the best version of you! I decided to educate myself about fitness, human physiology, right nutrition and effective workout. My goal is to spread awareness about fitness & nutrition in Bengali. Stay connected with me, share my work. Help yourself & also help the people you care about .


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *